সুদের টাকা পরিশোধ করতে না পারায় ভিটেমাটি ছাড়তে হলো টিউবওয়েল মিস্ত্রি কাশেমের পরিবার

মোঃ হাবিব ওসমান, ঝিনাইদহ ব্যুরো ঃ
সুদের টাকা পরিশোধ করতে না পারায় ভিটেমাটি ছাড়তে হলো টিউবওয়েল মিস্ত্রি কাশেমের পরিবারকে। বাড়ি-ঘরে তালা লাগিয়ে জোরকরে বেরকরে দেয়ায় বর্তমানে তারা আশ্রয় নিয়েছে খোলা আকাশের নিচে। ঘটনাটি ঘটেছে হরিণাকুন্ড ুউপজেলার চাঁদপুর ইউনিয়নের হাকিমপুর গ্রামে। জানা গেছে গ্রামের বহুল পরিচিত সুদখোর মোস্তফা দীর্ঘদিনধরে সুদের কারবার করে আসছিল। এরই মধ্যে একই গ্রামের কাশেম নামের এক টিউবওয়েল মিস্ত্রিকে নানা প্রলোভন দেখিয়ে তার পাতা ফাঁদে ফেলে। প্রথমে কাশেমের দশ শতকের একটি ভিটেবাড়ি মোস্তফা কৌশলে বিক্রিকরে দুইলক্ষ আশি হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়। পরে মোস্তাফা তারনামে থাকা অপরএকটি বাড়ি কাশেমের নামে লিখে দেয়ার কথা বলে সাতলক্ষ আশি হাজার টাকাও হাতিয়ে নেয়। তবে টাকা নেয়ার সময় কোন সাক্ষী- প্রমাণ রাখেনা। এরই ধারাবাহিকতায় মোস্তফা ১০ লক্ষ ৬০ হাজার টাকার কোন সুরাহা না করে কাশেমকে আটাশ হাজার টাকা ধারদেয় । কিন্তু এক বছর পর কাশেমের ধারের টাকা সুদে- আসলে ২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা হয়েছে বলে সুদখোর মোস্তফা দাবী করতে থাকে। টাকা পরিশোধ করতে না পারায় গত ১৮ জুলাই ২০১৮ ইং তারিখে কাশেমকে দুই মেয়ে কাকনী (২৪), কণিকা (১৩) ছেলে কাকন (৯) এবং স্ত্রী বাতাসীসহ তাকে বাড়ি-ঘর থেকে জোর করে বের করে দিয়ে তালা লাগিয়ে দেয়। অসহায় পরিবারটি বর্তমানে খোলা আকাশের নিচে চরম নিরাপত্তাহীনতার মধে দিন কাটাচ্ছে, জানা গেছে সমির উদ্দিনের ৫ শতক জমি, কাদেরের ২ শতক জমি রেজিষ্ট্রি না করে দেওয়ার তালবাহান করে যাচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক হাজার টাকায় বৎসরে দুই মণ ধান (ইরি এবং আমনে দুই মণ ধান) দেওয়া লাগে। এই ভাবেই সুদে কারবারী মোস্তফা তার কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে তার নিজ গ্রামে। ধান এবং সুদে টাকা সময় মত না দিলে চড়াও হয়ে ওদের উপর নির্যাতন ও অত্যাচার শুরু করে। তারা জেলা প্রশাসক – পুলিশ সুপার সহ প্রশাসনের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।
চাঞ্চচল্যকর এ বিষয়ে সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকরা সুদখোর মোস্তফার মুখোমুখী হলে মোস্তফা টাকা লেন-দেন এবং কাশেমকে ঘরথেকে বের করে দিয়ে তালা লাগিয়ে দেয়ার বিষয়টি স্বীকার করলেও সুদের কারবারের বিষয়টি অস্বীকার করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *