২৩-এও শূন্য রোনালদো

স্বপ্নের অভিষেক তো হয়ইনি, এখন সেটা না দুঃস্বপ্নে রূপ নেয়! ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো নিজেই ধৈর্যহারা হয়ে উঠছেন। ইতালিয়ান লিগে নিজের প্রথম গোলের জন্য আরও ১৫ দিন অন্তত অপেক্ষা করতে হবে। আন্তর্জাতিক বিরতিতে যাওয়ার আগে কালই ছিল জুভেন্টাসের শেষ ম্যাচ। তাতেও গোল পেলেন না রোনালদো। এ নিয়ে লিগে তিন ম্যাচ খেলে ২৩টি শট নিয়ে একটিও গোল লেখা হলো না রোনালদোর নামের পাশে! ইউরোপের শীর্ষ ৫ লিগে এতগুলো শট নিয়েও গোল না পাওয়া অভাগা খেলোয়াড়টির নাম রোনালদোই।

রোনালদো গোলহীন থাকলেও জুভেন্টাসের জিততে অসুবিধা হয়নি। পারমার মাঠে মাত্র ২ মিনিটেই জুভেন্টাসকে এগিয়ে দিয়েছিলেন মারিও মানজুকিচ। ৩৩ মিনিটে জেরভিনজোর সমতা ফেরানো আর রোনালদোর একের পর এক সুযোগ হাতছাড়া করায় জুভ-সমর্থকেরা একটু শঙ্কায় পড়ে গিয়েছিলেন হয়তো। তবে ৫৮ মিনিটে মাতুইদির গোল শেষ পর্যন্ত জুভেন্টাসের জন্য ৩ পয়েন্ট নিশ্চিত করে। মাতুইদির গোলটি মানজুকিচের বানিয়ে দেওয়া। গোল করে, করিয়ে এ রাতেও নায়ক এই সার্বিয়ান।

রোনালদোর পর ইউরোপের শীর্ষ ৫ লিগের সবচেয়ে অভাগা খেলোয়াড়টি নাতেঁর ভ্যালেন্তিন রজিঁয়ে। ১৫ শট নিয়েও এখনো গোলের খাতা খুলতে পারেননি এই মিডফিল্ডার।

ক্রিস্টাল প্যালেসের স্ট্রাইকার ক্রিস্টিয়ান বেনটেকে ১২ শটে গোল পাননি একটিও। এই তালিকার চারে আছেন তুলুজ স্ট্রাইকার অ্যান্ডি ডেলর্ট (১২) আর পাঁচে লিওঁর নাবিল ফেকির (১১ শট)। চেনা নামগুলো রোনালদো খুঁজে পাবেন না এই তালিকায়। পাবেন কী করে, সবাই যে গোলের খাতা খুলে ফেলেছেন। লিওনেল মেসি লিগে করেছেন ২ গোল। নেইমার করেছেন ৪ গোল। এমনকি করিম বেনজেমা পর্যন্ত ৪ গোল করে ছুটছেন!

রোনালদো শিগগিরই এই বন্দিদশা থেকে মুক্তি পাচ্ছেন না। দুটি আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচের বিরতির জন্য ইউরোপের ক্লাব ফুটবলে দুই সপ্তাহের ছুটি। জুভেন্টাসের পরের ম্যাচ ১৬ সেপ্টেম্বর।

গতবার স্প্যানিশ লিগেও কিন্তু রোনালদোর শুরুটা হয়েছিল হতাশামাখা। শুরুর দিকে লিগে চার ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ হয়েছিলেন। ফিরে আসার পর প্রথম গোলটি পেতে ২৮টি শট নিতে হয়েছিল রোনালদোকে। সেই তিনি মৌসুম শেষ করেছিলেন ৪৪ ম্যাচে ৪৪ গোল করে! ফলে রোনালদোর গোল না পাওয়াটা কিন্তু ভেতরে-ভেতরে আগ্নেয়গিরির বিস্ফোরণ-প্রস্তুতিও হতে পারে!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *