ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ শহরে বিভিন্ন যানবাহনের এলইডি লাইটের প্রভাবে জনজীবনে দুর্ভোগ, প্রতিনিয়িত ঘটছে দূর্ঘটনা

মোঃ হাবিব ওসমান, ঝিনাইদহ ব্যুরোঃ
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ শহরসহ এই উপজেলার সড়ক ও মহা-সড়কগুলোতে সন্ধ্যা লাগলেই চলাচল করা মুশকিল তার একটাই কারণ বিভিন্ন যানবাহনের হেড লাইটে এলইডি লাইটের ব্যবহার। ৭০ বছর বয়সী মোবারকগঞ্জ চিনিকলের একজন অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, জীবনের শুরু থেকেই মোটরসাইকেল চালান তিনি মোটরসাইকেল চালানোর এত বছরের অভিজ্ঞতা থাকা স্বত্বেও তিনি এখন মোটরসাইকেল চালাতে ভয় পান। কারণ সেই সময় ডিজিটাল ছিল না তবে আইন ও মানুষের মধ্যে সচেতনতা ছিল। মোটরসাইকেলসহ প্রতিটি গাড়ির হেডলাইটের উপরের অংশে ছিল কালো রং করা। যাতে করে কারও চোখে আলোকরশ্মি না পড়ে এবং যারা গাড়ি চালায় তাদের গাড়ি চালাতে কষ্ট না হয়। এতে করে দূর্ঘটনা ও কম হত। কিন্তু ডিজিটাল যুগে এসে নানা প্রকার লাইটের আলো চোখে এমন ভাবে এসে পড়ে যে সামনে কি আসছে কিছুই বুঝা যায় না। এজন্য ভয়ে রাতে এখন আর গাড়ি নিয়ে বের হন না । শুধু তিনিই না বর্তমানে যে কোন সাধারন ব্যক্তি রাতে শহরসহ সড়ক-মহাসড়কে বের হলেই গাড়ির হেডলাইটের যন্ত্রনায় পড়বে। আর যানবাহনের হেডলাইটের এবং এলইডি লাইটের আলোর প্রভাবে জনজীবনে চরম দুর্ভোগ নেমে এসেছে। শুধু ঝিনাইদহ কালীগঞ্জই না প্রতিটা শহরে, সড়ক ও মহাসড়কে সর্বত্র দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে নানান ধরনের যানবাহনের সংখ্যা আর সেই সাথে বেড়ে চলছে এলইডি লাইটের ব্যবহার।
যানবাহনের সাথে লাগানো এলইডি লাইটের আলো চলাচলের সময় ব্যাপক ভাবে চোখে পড়ায় সাধারন মানুষের পথ চলতে নানা সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। এই আলো চোখে পড়া মাত্র যেন চোখ ধাধিঁয়ে যায়। যার ফলে প্রতিনিয়ত মানুষ সড়ক দূর্ঘটনার সম্মুখীন হচ্ছে। দিন দিন যেন এই আলোর কারণে জনজীবনে র্দুভোগের শেষ নেই।
এলইডি লাইটের অধিক ব্যবহারের দিকে ট্রাফিকপুলিশ প্রশাসনের কোন মাথা ব্যাথা নেই।
রাতে কালীগঞ্জ শহরের বিভিন্ন সড়ক মহা-সড়কগুলোতে সরোজমিন ঘুরে দেখা যায় প্রতিটি অটো ভ্যান, রিক্সা, ইজিবাইক, সিএনজি, থ্রি হুইলার মাহেদ্র, লাটা হাম্বার, আলমসাধূ, নসিমন, করিমন, মটর সাইকেলসহ অন্যান্য অনেক যানবাহনে এলইডি লাইটের ব্যাবহার। এছাড়া অন্য লাইট ব্যাবহারকারী যানবাহনের চালকরা এই এলিডি লাইটের আলোর কারণে দাড়িয়ে যায়, কারণ একটু বেপরোয়া হলেই ঘটবে দূর্ঘটনা। আপর দিকে শহর, সড়ক ও মহাসড়কে চলাচলকারী বাস, ট্রাক, প্রাইভেটকারসহ কোন গাড়ির হেডলাইটের উপরের অংশে এখন আর কালো রং ব্যবহার করা হয় না। যার কারণে এ সকল গাড়ির আলো সরাসরি এসে বিপরীত দিক থেকে আসা গাড়ির চালক ও পথচারি চোখে এসে পড়ে লাইটের এ আলোতে চোখে ধাধিয়ে আসে। আর তখনই ঘটে দূর্ঘটনা।
একাধিক ব্যাক্তি এই দূঃখ প্রকাশ করে জানায়, বিপরীত দিক থেকে আসা ভ্যান বা ইজিবাইকের এলইডি লাইটের আলোর কারণে চালক তথা সাধারন মানুষের পথ দেখতে ব্যাপক অসুবিধা হয়। সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম কারন গুলোর মধ্যে একটি তীব্র এলইডি লাইটের আলো। যা এখনই প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন।
ইকরামুল ইসলাম নামের এক পথচারী বলেন, এখন শহর ও গ্রাম গঞ্জের রিক্সা-ভ্যানেও এলইডি লাইটের ব্যবহার বেড়েছে। ওপর প্রান্ত থেকে আশা গাড়ির ড্রাইভার বা মানুষ চলাচলের সময় যদি চোখে এই এলইডি লাইটের আলো পড়ে তাহলে কিছুই দেখা যায় না। এ কারণে আগে দেখতাম গাড়ির হেড লাইটের উপর কাল্ োরং করা থাকত। গাড়ি ক্রোসিনের সময় কালো রং করা না থাকলে অপর প্রান্তের কিছুই দেখা যায় না। কিন্তু এখন সারা রাত খুজলেও একটা গাড়ি পাবেন না যে গাড়ির হেডলাইটে কালো রং করা আছে। যা কারনে চোখে উজ্জল আলো পড়ে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে।
কালীগঞ্জ মাষ্টার পাড়ার ট্রাক ড্রাইভার আরুজ আলী বলেন, আগে গাড়ির হেডলাইটের প্রায় এক ইঞ্চি কালো রং করা না থাকলে পুলিশে ধরত। এখন আর ধরে না তাই কেহই কালো রং করে না। তবে ঢাকায় কালো রং করা না থাকলে পুলিশে ধরে জরিমান করে। অনেক সময় মামলা দেয়।
চক্ষু চিকিৎসক ডাঃ আবু সুফিয়ান শান্তি বলেন, এই লাইটের প্রভাবে ম্যাকুলা বার্ণ হতে পারে এবং প্রতিটা মানুষের চোখে কর্নিয়া থাকে আর এই আলো সরাসরি চোখে লাগলে চোখ ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে। তবে দীর্ঘদিন এভাবে আলো চোখে লাগতে থাকলে কর্নিয়া নষ্ট হয়ে যেতে পারে। যাতে করে চোখে কম দেখা, ঝাপসা দেখাসহ আস্তে আস্তে অন্ধ হয়ে যেতে পারে।
এ ব্যাপারে বারবাজারের হাইওয়ে থানার ওসি নজরুল ইসলাম বলেন, আমরা আসলে হাইড্রোলিক হর্ন বা অন্যান্য যে সমস্যা আছে সে গুলি আমরা নিয়ন্ত্রন করার জন্য যা যা করা উচিৎ করছি। লাটা হাম্বার, আলমসাধূ, নসিমন, করিমনসহ যা আছে এগুলো তো মহাসড়কে চলারই কোন আইন নাই। এসব যানবাহন তো অবৈধ্য আর অন্যান্য যে যানবাহনে এলইডি লাইট লাগানো আছে আমরা বন্ধ করার ব্যাপারে পদক্ষেপ নিবো। গতমাসে আমরা এসব অবৈধ যানবাহনে ১৪০ টি মামলা দিয়েছি এবং ১২০ টির অধিক আটক আছে। এসব দেখার দায়িত্ব জেলা পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ ও ট্রাফিক পুলিশসহ সবার। আর এ গাড়িই অবৈধ্য লাইটের তো প্রশ্নই আসেনা আমরা যৌথ ভাবে নিয়ন্ত্রন করার চেষ্টা অব্যহত আছে। এলইডি লাইটের বিষয় কোন আইন নেই তবে বিধিতে আছে যে প্রতিটি গাড়ির হেডলাইটের তিন ভাগের এক ভাগ কালো রং করা থাকতে হবে। তবে এ অপরাধে জন্য প্রশাসন নিরাপত্তা আইনে নিয়ে ১৪৯ ধারায় মামলা হয়ে থাকে। আগে ট্রাফিক সপ্তাহ করে এ সকল গাড়ির হেডলাইটে কালো রং করে দিতো। আমরা শীঘ্রই এ বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *