পাবিপ্রবি হচ্ছে দক্ষ মানব সম্পদ তৈরির হাব

দেশে প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালানোর জন্য দক্ষ জনশক্তি নেই বললেই চলে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়কে (পাবিপ্রবি) মানবসম্পদের হাব হিসেবে গড়ে তোলা হবে।

এ জন্য ‘পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন’ নামে একটি প্রকল্প হাতে নিচ্ছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এটি বাস্তবায়নে ব্যয় হবে ৪৮০ কোটি ৬০ লাখ টাকা।

প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়ন এবং নতুন নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন করা সম্ভব হবে। সেই সঙ্গে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিভিত্তিক মৌলিক ও প্রায়োগিক শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একাডেমিক এবং গবেষণার সুযোগ বৃদ্ধি এবং সার্বিকভাবে ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে মানবসম্পদ উন্নয়ন হবে।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. এএসএম মিজানুর রহমান রোববার যুগান্তরকে বলেন, পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য অনেক দক্ষ জনশক্তির প্রয়োজন হবে।

যখন এ কেন্দ্রটি চালু হবে তখন নিয়মিতভাবেই ১ হাজার ৬০০ লোক কাজ করবে। এর বাইরে আরও অনেক মানুষের প্রয়োজন হবে। তাছাড়া দক্ষিণাঞ্চলে সরকার আরও বড় আকারের পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র তৈরির পরিকল্পনা নিয়েছে। সে ক্ষেত্রে এ খাতে বিপুল জনশক্তির চাহিদা তৈরি হবে।

সে জন্য এখন থেকেই উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয় খোলা হতে পারে। যেটি পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুনভাবে চালু হওয়া নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে মাস্টার্স প্রোগ্রাম শেষ করে ইতিমধ্যে প্রথম ব্যাচের ১০ জন ইঞ্জিনিয়ার রূপপুর বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্পে জয়েন করেছেন।

এ ছাড়া এমইটি ও বুয়েটেও সীমিত আকারে এ ধরনের কোর্স চলছে। সে ক্ষেত্রে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়কে জনসম্পদের হাব করা হলে দক্ষ জনশক্তি নেই বলে এখন যে সমালোচনা আছে তা আর থাকবে না।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানায়, শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে প্রস্তাব পাওয়ার পর ইতিমধ্যে প্রকল্পটি প্রক্রিয়াকরণ শেষ করা হয়েছে। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) আগামী সভায় উপস্থাপন করা হতে পারে।

অনুমোদন পেলে চলতি বছর থেকে ২০২১ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে যৌথভাবে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন ও পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

এ বিষয়ে একনেকের জন্য তৈরি করা প্রকল্পের সারসংক্ষেপে পরিকল্পনা কমিশনের আর্থসামাজিক অবকাঠামো বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সদস্য মুহাম্মদ দিলোয়ার বখত কমিশনের মতামত দিতে গিয়ে উল্লেখ করেছেন, ক্রমবর্ধমান চাহিদার আলোকে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিগত শিক্ষা প্রদানের লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য প্রকল্পটি সহায়ক ভূমিকা রাখবে। এ বিবেচনায় প্রকল্পটি অনুমোদনের সুপারিশ করা হয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ঢাকা-পাবনা মহাসড়কের পার্শ্ববর্তী স্থানে ৩০ একর জমির ওপর অবস্থিত। এ বিশ্ববিদ্যালয়টিকে প্রতিবছর ২১টি বিভাগে ১ হাজার জন শিক্ষার্থী ভর্তি হন। বর্তমানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা সাড়ে ৪ হাজার।

আগামী ২০২১ সালের মধ্যে শিক্ষার্থীর সংখ্যা দাঁড়াবে ৭ হাজার ১৪০ জন। পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকে এখন পর্যন্ত একটি প্রকল্পের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু অবকাঠানো নির্মাণ করা হয়েছিল।

চাহিদার তুলনায় তা ছিল অপ্রতুল। তাই চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মানসম্পন্ন উচ্চশিক্ষা নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয়টির অবকাঠামো উন্নয়ন প্রয়োজন। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রকল্পটি প্রস্তাব করা হয়েছে।

প্রকল্পের আওতায় প্রধান যেসব কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে সেগুলো হল : ৬৫ হাজার ২৬৩ বর্গমিটার ভূমি উন্নয়ন, একটি ১০ তলা প্রশাসনিক ভবন নিমাণ, দুটি ১০ তলা ছাত্রছাত্রী হল নির্মাণ, দুটি ১২ তলা একাডেমিক ভবন নির্মাণ, একটি চার তলা কনভেনশন ভবন, একটি অডিটোরিয়াম ও টিএসসি ভবন নির্মাণ এবং তিন তলা শিক্ষক-কর্মচারী ক্লাব নির্মাণ। পাশাপাশি ওয়ার্কশপ ও পুলিশ স্টেশন, শহীদ মিনার ও মুক্তমঞ্চ, আনসার ক্যাম্প ভবন, মন্দির, ওয়াটার বডি ও কেন্দ্রীয় পানি নিষ্কাশন লাইন স্থাপন, ই-লাইব্রেরি স্থাপন, যানবাহন কেনাসহ আনুষঙ্গিক কার্যক্রম বাস্তবায়িত হবে।

সূত্র জানায়, সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারে থাকা ফাস্টট্র্যাকভুক্ত প্রকল্প হচ্ছে পাবনার রূপপুর পরমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র। এ্রটি বাস্তবায়নে মোট ব্যয় হচ্ছে ১ লাখ ১৩ হাজার ৯২ কোটি ৯১ লাখ টাকা। তার আগে প্রস্তুতিমূলক প্রথম পর্যায় বাস্তবায়নে ব্যয় হয়েছে ৫ হাজার ৮৭ কোটি টাকা। প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ের শুরু থেকে গত জুন পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ১০ হাজার ২০৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা। এরই মধ্যে বাস্তবায়ন কাজও এগিয়েছে অনেক দূর। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে প্রকল্পটির বাস্তবায়ন শেষ হলে দুটি ইউনিটের মাধ্যমে ২৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *