শত শত মেধাবী শিক্ষার্থীর একমাত্র ভরসা হারিকেন বুধহাটার শ্বেতপুরে বিদ্যুৎ সুবিধা থেকে বি তাড়িত শতাধিক পরিবার

 

আশাশুনি প্রতিনিধি : আশাশুনি উপজেলার শ্বেতপুরে পল্লী বিদ্যুতের সুবিধা থেকে বি তাড়িত প্রায় শতাধিক পরিবার। শেখ হাসিনার উদ্যোগ, ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ শ্লোগানটি উপজেলার অধিকাংশ জায়গায় বাস্তবায়ন হলেও বুধহাটা ইউনিয়নের শ্বেতপুর পশ্চিম পাড়া এলাকায় বিদ্যুতের সুবিধা থেকে বি ত রয়েই গেছে প্রায় শতাধিক পরিবার। সরেজমিন ঘূরে ও এলাকাবাসী সূত্রে জানাগেছে সর্বশেষ ২০১৪সালে মাপযোগ হলেও আজ পর্যন্ত বিদ্যুৎ সংযোগ তো দূরের কথা একটি বৈদ্যুতিক খুটিও স্থাপন করতে পারেনি পল্লী বিদ্যুৎ কর্মকর্তাগন। জানাগেছে শ্বেতপুর গ্রামের পশ্চিম পাড়া এলাকার আব্দুর রহিম এর দোকানের পর থেকে শ্বেতপুর পশ্চিমপাড়া আহলে হাদীস জামে মসজিদ এলাকা পর্যন্ত প্রায় শতাধিক পরিবার ছেলে, মেয়ে, পিতা, মাতা সহ পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাস করেন। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে অত্র এলাকার অসহায় পরিবার গুলো এখনও পর্যন্ত পল্লী বিদ্যুতের সুবিধা পায়নি। যেখানে কিনা বাংলাদেশের দূর্গম এলাকায়ও বাংলাদেশ সরকার পল্লী বিদ্যুতের সংযোগ পৌছে দিয়েছেন। তথ্য সংগ্রহকালে শ্বেতপুর পশ্চিমপাড়া আহলে হাদীস জামে এলাকার আকবর ঢালীর স্ত্রী মহাসিনা বেগম জানান পল্লী বিদ্যুতের সুবিধা নেওয়ার জন্য তিনি সহ আরও অনেকে একই সাথে ২০১৪সালে বৈদ্যুতিক খুটির আবেদন করেছিলেন। কিন্তু দুঃখের বিষয়, সেই সময় কিছু মাপযোগ হলেও এখনও পর্যন্ত তার কোন বাস্তবায়ন হয়নি। ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী স্বপ্না পারভীন জানান ল্যাম্প ও হারিকেন জ্বালিয়ে গরমে অনেক কষ্টের মধ্যে পাড়াশোনা করতে হয়েছে তাকে। এছাড়া বুধহাটা বিবিএম কলেজিয়েট স্কুলের ছাত্র মাসুদ রানা, সাহেব আলী, বুধহাটা কওছারিয়া দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী খুকুমনি, আখলিমা খাতুন, সুন্দরবন পলি টেকনিক্যাল কলেজের ছাত্র মফিজুল ইসলাম বলেন সামনে আমাদের পরীক্ষা, প্রায় সারা রাত ধরে পড়াশুনা করতে হয় আমাদের। গভীর রাত পর্যন্ত পড়াশুনা করতে গেলে অনেক সময় চার্জার লাইটের চার্জ ফুরিয়ে যায়। ফলে বাকী থেকে যায় অনেক প্রশ্নের উত্তর। বর্তমানে পড়াশুনায় তাদের বিদ্যুতের বিকল্প ব্যবস্থা হয়ে দাড়িয়েছে চার্জাও লাইট বা হারিকেন। ডিজিটাল যুগে সরকার যেখানে ছাত্র ছাত্রীদের জন্য কম্পিউটর সাবজেক্ট করে দিয়েছেন, সেখানে নিজ বাড়ীতে বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় মোটা অংকের টাকা দিয়ে অন্যের কাছে কম্পিউটর শিখতে যেতে হয় তাদের। সব মিলিয়ে পল্লী বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে তাদের। তবে এব্যাপারে আশাশুনি পল্লী বিদ্যুতের এজিএম এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি এব্যাপারে কথা বলতে রাজি হননি। তিনি বলেন বিষয়টি পাটকেলঘাটা অফিস দেখাশুনা করেন, আপনি সেখানে যোগাযোগ করুন। এমতাবস্থায় ভুক্তভোগী পরিবার গুলো অতিদ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ পেতে প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *