জাগো বাংলাদেশ, জাগতেই হবে…

রাতভর ঘুম…নেই আঁধার শুধু আলো…জাগো বাংলাদেশ…জাগো

অর্ণবের গানের কথাগুলো থেকেই অনুপ্রেরণা নিতে পারে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল। দেশের মাটিতে তাঁদের জেগে ওঠা যে জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফুটবলপাগল জাতিকে ‘দেশের ফুটবল’ নিয়ে হতাশা থেকে দিতে হবে মুক্তি। এই দায়িত্বটা এবার আর পালন করার চেষ্টা নয়, করেই দেখাতে হবে জামাল ভূঁইয়াদের। না হলে ‘আইসিইউ’তে থাকা ফুটবলের অক্সিজেন নলটাও আর মুখে এঁটে থাকবে না!

থাকবেই-বা কী করে! আর কত হার মেনে নেওয়া যায়? আর কত বাংলাদেশের জার্সি পরে এক দল ছেলের মাথা নিচু করে বের হয়ে আসার দৃশ্য দেখা যায়? দৃশ্যটা না বদলালেই যে অন্যায় হবে। জাতীয় দলের একের পর এক ব্যর্থতায় দেশের ফুটবল থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার মতো অবস্থা। যেকোনো আড্ডায় দেশের ফুটবল নিয়ে কথা উঠলেই, ‘আরে ধুর, দেশের ফুটবল।’ কত হতাশা থেকে এমন অভিব্যক্তি, সেটা না বোঝার কোনো কারণ নেই। হারতে হারতে একেবারেই তলানিতে নেমে র‍্যাঙ্কিংয়ের ১৯৪ নম্বরে যে অবস্থান করছে বাংলাদেশ। তবুও হঠাৎ আসা একটি জয়ে আবারও হেসে উঠে ফুটবল। আশাবাদী হয়ে ওঠে মানুষ। তখনই বোঝা যায়, ফুটবলকে ঘিরে উন্মাদনা কমেনি শুধু ক্রিকেটের আড়ালে পড়ে আছে।

সদ্য সমাপ্ত এশিয়ান গেমসের অনূর্ধ্ব–২৩ ফুটবলে কাতারকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো দ্বিতীয় রাউন্ডে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে বাংলাদেশ। মাহবুবুর রহমান সুফিল, বিপলু আহমেদদের পায়ে দেখা গিয়েছে ‘ফুটবল’ ফুল। ব্যস, আবার জেগে উঠেছে মানুষ। নিতে শুরু করেছে ফুটবলের খোঁজ। এরপর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে হারে সে উত্তেজনা কমে এসেছে সত্য। তবে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে ঠিকই দেখিয়ে দেবে তরুণেরা, এ বিশ্বাস নিয়েই আজ বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামের ভাঙা গ্যালারিতে এসে বসতে আপত্তি নেই তাঁদের। শুধু একটাই চাওয়া, ভুটানকে হারিয়ে শুরু হোক সাফ জয়ের মিশন। অন্তত গ্রুপ পর্বের বাধা পার হয়ে দেখাক দল।

২০০৩ সালে প্রথম ও শেষ সাফ শিরোপা জয়ের পর কেটে গিয়েছে ১৫ বছর। বাংলাদেশ ফুটবল ইতিহাসের কিংবদন্তি ফুটবলার কাজী সালাউদ্দীনের সভাপতিত্বের সময়ের তিন সাফে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছে লাল-সবুজরা। তবু সাফ আসলে বাস্তবতার ধার না ধরে স্বপ্নের উড়া উড়ি। এবার সে ডানায় হাওয়া দিয়েছে এশিয়াডে কাতার বধ। শুরুতে প্রতিপক্ষ হিসেবে এ বছর হঠাৎ বড় হয়ে ওঠা ভুটান সে স্বপ্নে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারবে না বলেই বিশ্বাস।

সাফে নিজেদের সর্বশেষ ৯ ম্যাচে বাংলাদেশের জয় মাত্র একটি। আশার কথা, সেই একমাত্র জয়টি ভুটানের বিপক্ষেই, ৩-০ গোলে। এরপর যদিও থিম্পুতে ২০১৬ সালের ১০ অক্টোবর এএফসি এশিয়ান কাপের প্রাক-বাছাইয়ে ভুটানের কাছে হেরেছে বাংলাদেশ। যে হারকে সুযোগ পেলেই অঘটন হিসেবে চালিয়ে দিয়েছেন সাবেক অধিনায়ক মামুনুল ইসলাম। আসলেই কি অঘটন ছিল, না ওটাই ছিল বাংলাদেশের অবনতির প্রমাণ, তা বোঝা যাবে আজ।

থিম্পুর পর ঢাকা। মাঝে কেটে গেছে ২৩ মাস। দুই দলের খেলোয়াড়ে বদল এসেছে বিস্তর। বেলজিয়ান কোচের জায়গায় বাংলাদেশের ডাগআউটে এখন তরুণ এক ব্রিটিশ। আর ভুটানিজদের ডাগআউটে জার্মানির টরটেন স্পিটলারের জায়গায় ব্রিটিশ ট্রেভর মরগান। খুঁজলে পাওয়া যাবে আরও অনেক বদল। তবু চাংলিমিথাংয়ের ওই ৩-১ গোলের হারটা এখনো বাংলাদেশের ফুটবলে দগদগে এক ক্ষত। এই ক্ষতে প্রলেপ দিয়েই শুরু হতে পারে নতুন যুগের বাংলাদেশ। যে বাংলাদেশের সম্ভাব্য প্রথম একাদশের সাতজন খেলোয়াড়ের বয়স ২২–এর নিচে। এই তরুণেরাই তো ‘জাগো বাংলাদেশে’র প্রেরণা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *