ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সমাবেশ অনুষ্ঠিত

মোঃ হাবিব ওসমান,  ঝিনাইদহ ব্যুরোঃ
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ বাস টার্মিনালে স্থানীয় ঘাতক দালাল নির্মুল কমিটির আয়োজনে জনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার বিকেলে মেইন বাসষ্ট্যান্ডে অনুষ্ঠিত জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির কেন্দ্রীয় সভাপতি শাহরিয়ার কবির, বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক কাজী মুকুল, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের কালীগঞ্জ উপজেলা সভাপতি সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল মান্নান, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির যশোর জেলার সভাপতি হারুন অর রশিদ, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির ঝিনাইদহ জেলার সাবেক সভাপতি ও কেন্দ্রীয় সদস্য খন্দকার হাফিজ ফারুক, ঝিনাইদহ জেলার সভাপতি অ্যাডঃ লিয়াকত আলী, সহ সভাপতি মোফাজ্জেল হোসেন মঞ্জু। সমাবেশে অন্যানের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, ফুরসন্ধি ইউপি চেয়ারম্যান এ্যাডঃ আঃ মালেক, নলডাঙ্গা ইউপি চেয়ারম্যান কবির হেসেন, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও আওয়ামীলীগ নেতা ওহিদুজ্জামান ওদু, মহিলালীগের নেত্রী রিংকু ঘোষ, বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি আব্দুর রশিদ খোকন প্রমূখ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহারিয়ার কবির বলেন, আমি অভিভূত হয়েছি যে, কালীগঞ্জের মতো ছোট্র শহরে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার জোয়ার দেখে। আর মাত্র তিন মাস জাতীয় নির্বাচনের বাকি। আমরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ^াস করি। আমাদের সজাগ থাকতে হবে। দেশ বিরোধী ঘাতক দালাল জামায়াতের কেউ যেন নির্বাচনে অংশ নিতে না পারে।
ঘাদানিক’র কালীগঞ্জ উপজেলা কমিটির আয়োজনে জনসভায় তিনি আরো বলেন, ইতিমধ্যে সরকার জামায়াতকে বাতিল করেছে। আমরা আজ ত্রিশ লক্ষ শহীদের রক্তের প্রতিনিধি হিসাবে রাজাকার জামায়াতিদের নির্বাচনে দেখতে চাই না। রাজাকারদের পুনর্বাসনকারীদেরও প্রতিহত করতে হবে। আমরা বিএনপিকে বলেছি জামায়াতকে বাদ দিয়ে নির্বাচনে আসেন। আপনারা পাকিস্তানের দালালি করবেন না। পাকিস্থানীদের দালালি করবেন আবার এদেশে নির্বাচন করবেন সেটা করতে দেওয়া হবে না। আমরা নির্বাচন কমিশনকে বলেছি জামায়াতের কোন সদস্য স্থানীয় নির্বাচনেও যেন স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনে অংশ নিতে না পারে। জামায়াত রাজাহাকারদের বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই। জামায়াত ইসলামীদের এ দেশে কোন ঠাই নেই। আমরা ইসলাম ধর্ম বিশ^াস করি। এদেশে মওদুদি ইসলাম নয়, থাকবে মহানবীর আদর্শের ইসলাম। বাংলাদেশে ধর্ম ব্যবসায়ীদের কোন ঠাই নাই।
প্রায় আধা ঘন্টার বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আওয়ামলীগ এত দেউলিয়া হয়ে যায়নি যে জামায়াতকে নিয়ে দল ভারি করতে হবে। স্বাধীনতা বিরোধীরা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছিল। তারা জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করেছিল। পরিস্কারভাবে বলতে চাই জিয়াউর রহমান মারা গেলেও তার বিচার এই বাংলার মাটিতে করা হবে। বঙ্গবন্ধুকে যারা হত্যা করেছে শেখ হাসিনা তাদের বিচার করছেন। বঙ্গবন্ধুর কন্যা তার কথা রেখেছেন। আমরা বুকের রক্ত দিয়ে হলেও যুদ্ধাপারাধিদের বিচার করবো। বিচার হচ্ছে। এখনো পর্যন্ত যাদের কারাদন্ড হয়েছে ও ফাসি হয়েছে। কিন্তু জামায়াত বিএনপি দেশে বিদেশে ষড়যন্ত্র করছেন। তাদের জন্য বিএনপি নেত্রী আর তার দোসররা মায়া কান্না করেন। আপনারা পাকিস্থানে চলে যান। বাংলাদেশে আপনাদের ঠাই নেই।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন আওয়ামীলীগের কালীগঞ্জ উপজেলা শাখার সাবেক সাধারন সম্পাদক ইসরাইল হোসেন।
সমাবেশটি পনিচালনা করেন কোলা ইউনিয়নের সভাপতি মনোয়ার হোসেন বাদশা মাষ্টার। এর আগে বিকাল ৩ থেকে বিভিন্ন ইউনিয়ন ও গ্রাম থেকে শত শত নেতা কর্মি বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে মিছিল সহকারে সমাবেশে যোগদান করেন।