কালীগঞ্জ শহরে চলছে প্রতারকচক্রের অভিনব প্রতারণা

মোঃ হাবিব ওসমান, ঝিনাইদহ ব্যুরোঃ
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ শহরে হঠাৎ করে একটি প্রতারক চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে। অসচেতনতার কারনেই খুব সহজেই সহজ সরল মানুষদের ফাঁদে ফেলে স্বার্থ লুটতে সক্ষম হচ্ছে তারা। আর সাধারন মানুষ অভিনব প্রতারনার শিকার হয়ে সর্বস্ব হারাচ্ছে। শহরে গত ১০ দিনের ব্যবধানে লোক সম্মুখে ৩ টি বড় ধরনের প্রতারনার ঘটনা ঘটলেও প্রতারকচক্রটি এখনও রয়েছে ধরা ছোয়ার বাইরে।
শহরের মাছ ব্যবসায়ী লিপন হোসেন জানান, গত ১০ দিন আগে খুব সকালে হেলমেট পরিহিত এক মটরসাইকেল আরোহী মাছ বাজারে প্রবেশ করে। এরপর তার দোকানে এসে কালীগঞ্জ ইউএনও অফিসে অনুষ্ঠানে মাছ লাগবে বলে জানায়। প্রতি কেজি সাড়ে ৬’শ টাকা দরে মোট ১৪ হাজার ৫’শ টাকার মাছ নিয়ে সাথে থাকা তিনটি ব্যাগে ভরে মটর সাইকেলের সাইডে ঝুলায়। ওই ব্যক্তি তার সামনে মাছের দামের হিসাবটিও নিজের কাছে থাকা নোটবুকে লিখে নেয়। তার দোকানের পাশ থেকে মতিয়ার রহমান নামের একজনকে ৫’শ টাকার চুক্তি করে মাছ কাটার জন্য বটিসহ তাকে মটর সাইকেলে উঠায়। স্থান ত্যাগ করার আগে বলে মাছ কাটতে যাওয়া মতিয়ারের কাছে সব টাকা দিয়ে দিবো। নিমতলা বাসস্ট্যান্ডের একটি খড়ির আড়তে গিয়ে মতিয়ারকে মটর সাইকেল থেকে নামিয়ে দেয়। এখান থেকে জ্বালানী কাঠ নেয়ার কথা বলে ভ্যান আনতে যাওয়ার ফন্দি করে স্থান ত্যাগ করে। পরে সে আর ফিরে আসেনি। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা শেষে সংশ্লিষ্ঠ অফিসে খোঁজ নিয়ে ব্যবসায়ীরা জানতে পারেন ওই দিন সেখানে কোন অনুষ্ঠানই ছিলনা। তখন তারা বুঝতে পারেন প্রতারনার শিকার হয়েছেন।
মাছ ব্যবসায়ী লিপন আরও জানান, ঘটনার দিনই সিসি ক্যামেরা দেখে লোক চিহ্নিত করতে থানায় গিয়েছিলেন। কিন্ত থানা থেকে বলা হয়েছিল যিনি ক্যামেরার দায়িত্বে আছেন তিনি ছুটিতে আছেন। এরপর তিনি আর যাননি।
অনুরুপভাবে গত শনিবার সকালে শহরের ফয়লা আলু পট্্িরর মৃত আদিলদ্দিন বিশ্বাসের ছোটছেলে সাইফুল ইসলামের ইজিবাইক মেইন বাসষ্ট্যান্ড থেকে গাজীর বাজার যাওয়ার কথা বলে যাত্রী সেজে ২ প্রতারক ঠিক করে। ইজিবাইকে উঠে বসে রওনা দিয়ে একজন ছন্দা সিনেমার কাছে এসে নেমে যায়। বাকি প্রতারক জনতা ব্যাংক মোড়ে এসে বাইক থামিয়ে মা মারা গেছে বলে কান্নাকাটি করতে থাকে। পরে ইজিবাইক চালক সাইফুলকে ইজিবাইক থেকে নেমে আগের সেই লোকটাতে ডাকতে পাঠায়। সাইফুল সহজ সরল মনে ইজিবাইক রেখে লোকটাকে খুঁজতে আসে। সেখানে না পেয়ে ফিরে এসে দেখে তার ইজিবাইকও নেই । সেই লোকটিও নেই। পরে অনেক খোঁজ করেও পায়নি।
সাইফুলের বড় ভাই শরিফুল ইসলাম জানায়, গত এক মাস আগে অনেক কষ্টে টাকা জোগাড় করে তার বেকার ছোট ভাইকে এ ইজিবাইকটি কিনে দিয়েছেন। যাত্রী বহনের মাধ্যমে সংসারও ভালো চলছিল তার। প্রতারকের ফাঁদে পড়ে এখন সে সব হারিয়ে পথে বসে গেছে।
সর্বশেষ গতকাল মঙ্গলবার সকালে শহরের খয়েরতলা গ্রামের শাহাজান আলী নামের এক যুবকের ইজিবাইকে মেইন স্ট্যান্ড থেকে কাঁচা বাজারে যাওয়ার কথা বলে ভদ্রবেশী এক প্রতারক যাত্রী সেজে ওঠে। ইজিবাইকটি শহরের মধুগঞ্জ বাজারের ঢাকা ষ্টোরের সামনে আসলে ওই লোকটি চালককে থামিয়ে দেয়। এরপর পকেট থেকে একটি ভিজিটিং কার্ড হাতে ধরিয়ে দোকান মালিককে দিয়ে আসতে বলে। চালক কার্ডটি দোকান মালিককে দিয়ে পেছন ফিরে দেখে তার ইজিবাইকও নেই। আর সে লোকটিও নেই। এরপর অনেক খোঁজাখুঁজি করেও কোন হদিস মেলেনি।
শহরবাসীর দাবি, মানুষ প্রতিনিয়ত এভাবে প্রতারনার শিকার হলে মানুষের প্রতি মানুষের বিশ্বাস হারিয়ে যাবে। ফলে অতি দ্রুতই এ চক্রের সদস্যদের আইনের আওতায় আনা দরকার। তাদের অভিযোগ শহরের মোড়ে মোড়ে সিসি ক্যামেরা বসানো রয়েছে। এ প্রযুক্তরি সাহায্য নিতে পারলে প্রতারকচক্রটি ধরা সহজ হবে।
কালীগঞ্জ থানা অফিসার্স ইনচার্জ ইউনুছ আলী জানান, আমি সদ্য যোগদান করেছি। মানুষ এমন প্রতারনার শিকার হলে তা দুঃখজনক। প্রতারনার শিকার যারা তারা অভিযোগ দিলে পুলিশের ব্যবস্থা নিতে সুবিধা হবে।