আলোচনা হতে পারে যেকোনো বিষয়েই: কাদের

বাংলাদেশে নিযুক্ত জার্মানির রাষ্ট্রদূত পিটার ফারেন হোল্টজ ও ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত মারি আন বোখতাৎ গতকাল বুধবার সচিবালয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। দুই রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাতের পর ওবায়দুল কাদের সাক্ষাতের আলোচ্য বিষয় ও দেশের বিরাজমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন। সেসব প্রশ্ন ও জবাব তুলে ধরেছেন প্রথম আলোর নিজস্ব প্রতিবেদক।

প্রশ্ন: নির্বাচন নিয়ে দুই রাষ্ট্রদূত কী বললেন?

কাদের: এটা (নির্বাচন প্রসঙ্গ) তো আলাপ করছেনই। সংলাপ নিয়ে খুব খুশি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংলাপ করছেন, এ জন্য বিশেষ ধন্যবাদ দিয়েছেন।

প্রশ্ন: সামনে নির্বাচন, আজ হঠাৎ কী নিয়ে আলোচনা হয়েছে?

কাদের: আসলে যদিও সৌজন্য সাক্ষাৎ, তারপরও স্বাভাবিক কারণেই এখন আলোচনার বিষয় তো আগামী নির্বাচন। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে সংলাপ এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। তারা খুব আশাবাদী যে সংলাপ থেকে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে একটি ‘ওয়ার্কিং আন্ডারস্ট্যান্ডিং’ হবে, সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য একটি গণতান্ত্রিক ভালো পরিবেশ তৈরি হবে। আমার মনে হয়, আলোচনা থেকে অনেক কিছুই জানা যাবে। এখানে হয়তো প্রশ্ন আসতে পারে, শুধু কি ঐক্যফ্রন্ট ও যুক্তফ্রন্টের সঙ্গে সংলাপ হবে? সে ব্যাপারেও আমাদের পরিষ্কার করে বলা দরকার যে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, তিনি অন্যান্য দলের সঙ্গেও সংলাপে বসতে রাজি। এখন দেখি কারা কারা প্রস্তাব পাঠায়।

প্রশ্ন: বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নতুন করে সাজা ও সাজা বাড়ানোর পর বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, এই রায়ের পর তাঁরা সংলাপের ফল নিয়ে সংশয়ে আছেন?

কাদের: এই রায় আওয়ামী লীগ সরকারও দেয়নি, প্রধানমন্ত্রীও দেননি। রায় দিয়েছেন আদালত। আইনি বিষয়ের সঙ্গে সংলাপের কোনো সম্পর্ক নেই। সংলাপে তাঁরা এ বিষয় উত্থাপন করতে পারেন, যেহেতু এখানে কোনো পূর্বশর্ত আরোপ করা হয়নি। তবে এখানে এমন নয় যে আওয়ামী লীগ তাঁকে (খালেদা) জেলে দিচ্ছে, আওয়ামী লীগ তাঁকে মুক্তি দেবে। বিএনপিকে আইনি যুদ্ধে যেতে হবে।

প্রশ্ন: প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া সংলাপের আমন্ত্রণপত্রে সংবিধানসম্মত সব বিষয়ে আলোচনার দ্বার উন্মুক্তের কথা বলা হয়েছে, কিন্তু জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সাত দফা দাবির কিছু বিষয় সংবিধানের সঙ্গে যায় না। সে ক্ষেত্রে আলোচনা কতটুকু ফলপ্রসূ হবে বলে মনে করেন?

কাদের: আমরা এ ধরনের সংলাপের পক্ষে ছিলাম না। কিন্তু আমাদের নেত্রী তাঁর দূরদর্শী নেতৃত্ব ও অভিজ্ঞতায় যেটা সঠিক মনে করেছেন, সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তাঁর সঙ্গে আমরা সবাই, আমাদের গোটা দল অভিন্ন মত পোষণ করেছি। কাজেই এখন আমরা আগাম কোনো মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকতে চাই।

প্রশ্ন: সংলাপকে কেন্দ্র করে সারা দেশে যখন ইতিবাচক বাতাস বইছে রাজনীতিতে, তখন কেউ কেউ মনে করছেন, এটা সময়ক্ষেপণের প্রক্রিয়া, কেউ কেউ বলছেন আসন ভাগাভাগির বিষয়।

কাদের: বিষয়টিকে সবাই সমান চোখে দেখবে, এটা মনে করার কোনো কারণ নেই। তবে প্রধানমন্ত্রীর এই উদ্যোগকে দলমত-নির্বিশেষে বেশির ভাগ মানুষ সমর্থন করছেন এবং আন্তর্জাতিক বিশ্ব পুরোপুরিভাবে। প্রধানমন্ত্রীর এই ইতিবাচক উদ্যোগকে আমাদের সমালোচক গণমাধ্যমও সম্পাদকীয় লিখে স্বাগত জানিয়েছে।

প্রশ্ন: এই সংলাপে জাতীয় সরকার নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলে মানুষের ধারণা আছে।

কাদের: আলোচনা যেকোনো বিষয় নিয়েই হতে পারে, হোক, স্বাগতম।

প্রশ্ন: আপনি তো এর আগে বলেছিলেন, অক্টোবরের মধ্যে নির্বাচনকালীন মন্ত্রিসভা গঠন করা হবে।

কাদের: নির্বাচনকালীন সরকার বলে এখানে কিছু নেই। একটা সরকার আছে, থাকবে। সরকারের কাজের পরিধি সংকুচিত হয়ে যাবে। সরকার রুটিনকাজের মধ্যে চলে যাবে। আমি তো এটাও বললাম, মন্ত্রীরা তখন পতাকা নিয়ে তাঁর নির্বাচনী এলাকায় যেতে পারবেন না। এমপি-মন্ত্রীরা সরকারি গাড়ি ব্যবহার করতে পারবেন না।

প্রশ্ন: ঐক্যফ্রন্টের নেতা ড. কামাল হোসেন বলেছেন, সংবিধান সংশোধন দু-এক মিনিটের ব্যাপার। আলোচনার একপর্যায়ে যদি এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, তাহলে?

কাদের: দু-এক মিনিটের ব্যাপার কি না, সেটাও আলোচনার টেবিলে আলোচনা হবে। আপনি বলবেন দু-এক মিনিট, আমি বলব দু-এক মিনিটেই সব সম্ভব নয়। যাক, এসব কথা বলে এখন সংলাপের পথে অন্তরায় সৃষ্টি করতে চাই না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *