কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসাবে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করলেন জাহাঙ্গীর হোসেন সোহেল

মোঃ হাবিব ওসমান, ঝিনাইদহ ব্যুরোঃ
আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলা থেকে দলীয় মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন কালীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও বর্তমান উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেন সোহেল।
গত-মঙ্গলবার (৫ফেব্রয়ারী-১৯) তারিখে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয় থেকে তিনি মনোনয়নপত্র ক্রয় করেন। জাহাঙ্গীর হোসেন সোহেল মনোনয়ন নিশ্চিত করতে স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ দলের শীর্ষ মহলে যোগাযোগ করছেন। তাঁর দৃঢ় বিশ্বাস শেষ পর্যন্ত তিনি মনোনয়ন পাবেন।
জাহাঙ্গীর হোসেন সোহেল বলেন, বঙ্গবন্ধুর আদর্শে অনুপ্রানিত হয়ে ১৯৮৮ সালে বাংলাদেশ ছাত্রলীগে যোগদানের মাধ্যমে রাজনৈতিক জীবনে পদার্পন করে। ৯০ স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে রাজপথের রাজনীতিতে সক্রিয় হয়। সক্রিয় ভূমিকা পালন করার কারনে ১৯৯৪ সালে পৌর ছাত্রলীগের ৫ নং (নিশ্চিন্তপুর) নিজ ওয়ার্ড সভাপতি পদে নির্বাচিত হন। সেই সময় থেকে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র-ছাত্রীদের মৌলিক আধিকার রক্ষায় দীর্ঘ সংগ্রামী সময় অতিবাহিত করে আসছি। ১৯৯৭ সালে পৌর ছাত্রলীগের ১ নং যুগ্ন-আহবায়কের পদ লাভ করে পৌর এলাকার প্রত্যেকটি ওয়ার্ড কমিটি গঠনের মধ্য দিয়ে বিএনপির ঘাটি খ্যাত পৌর এলাকায় বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের অবস্থায় সুদৃঢ় করার আগ্রনী ভূমিকা পালন করি। সকল প্রতিকুলতার মধ্য দিয়ে ১৯৯৮ সালে কালীগঞ্জ উপজেলার সাবেক সভাপতি খন্দকার রেজাউল করিম রেজা খুন হবার পর আবারও নেমে আসে অন্ধকার। কেন্দ্রিয় ও জেলা ছাত্রলীগের হস্তক্ষেপে ২০০০ সালে উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ন-আহবায়ক পদ লাভ করি। রাজনৈতিক ভাবে আমি মিথ্যা মামলার শিকার হয়ে আর্থিক দিক দিয়ে ক্ষতিগ্রস্থ হতে হয়েছে। ২০০৩ সালে সেনা বাহিনীর বিচরনের মধ্য দিয়ে উপজেলা ছাত্রলীগের সম্মেলনে আমাকে উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি পদে নির্বাচিত করে।
২০০৪ সালে জননেত্রী শেখ হাসিনার উপর গ্রেনেড হামলার প্রতিবাদে অংশ নেওয়ায় নতুন করে শুরু হয় নির্যাতন। তারই মধ্য দিয়ে কালীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগসহ গণ মানুষের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনে অংশ নিয়ে জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যেকটি নির্দেশ পালন করি। জোট সরকারের পুলিশ বাহিনী আমার পরিবারের উপর অমানুষিক নির্যাতনের কারনে আমার আব্বা ব্রেন ষ্ট্রোক করে দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকা অবস্থায় মৃত্যুবরন করেন। ওয়ান ইলেভেনের পর ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে সর্ব প্রথম কালীগঞ্জ উপজেলায় বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের নিরঙ্কুশ বিজয় সুনিশ্চিত হয়। আমি ২০০৩ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত বারবার উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতির দায়িত্ব ন্যায় ও নিষ্টার সাথে পালন করি। কালীগঞ্জ উপজেলায় ১০১৬ সালে সম্মেলনের মধ্যে দিয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের উপজেলা শাখার সাধারন সম্পাদক নির্বাচিত হয়ে সদ্য সমাপ্ত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঝিনাইদহ-৪ আসনের আওয়ামীলীগের মনোনীত প্রার্থী সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম আনারের এই বিশাল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছি।
আজ যেকোনো সময়ের থেকে আওয়ামীলীগ অনেক সুসংগঠিত ও শক্তিশালী। দুর্দিনে আন্দোলন-সংগ্রামে প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলের হামলা-মামলার শিকার হয়েছি মিথ্যা মামলার শিকার হয়েছি কিন্তু কখনো আওয়ামী লীগ ছাড়িনি। বিপদ-আপদে সব সময় নেতাকর্মীদের পাশে ছিলাম, আছি এবং থাকবো।
দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করে জননেত্রী শেখ হাসিনা সরকারের উন্নয়ন চিত্র তুলে ধরে জনগণের কাছে ভোট প্রার্থনা করছি। আশা করি দল আমার কাজের মূল্যায়ন করবে। মনোনয়ন পেলে বিজয়ী হয়ে আনোয়ারুল আজীম আনার এমপির নেতৃত্বে কালীগঞ্জ উপজেলাকে সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ, ঘুষ-দুর্নীতি ও মাদকমুক্ত একটি আধুনিক উন্নত জনপদ হিসেবে গড়ে তুলবো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *