নিষেধাজ্ঞা সত্তেও তালার সিকান্দার মেলায় চলছে নগ্ননিত্য

এসকে রায়হান, তালা (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধিঃ তালার সিকান্দার মেলায় এবারও নগ্ননিত্য আর জুয়ার আসর বসানোর পায়তারা করছে একটি মহল। জেলা প্রশাসন ও জেলা শিল্পকলা একাডেমি কর্তৃপক্ষের কঠোর নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও মাঠ মালিকের যোগসাজসে একটি মহল নগ্ন নিত্য আর জুয়ার আসর বসাতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। স্থানীয় ব্যক্তিকে ম্যানেজ করতে ইতিমধ্যে মহলটি তৎপরতা শুরু করেছে। গভীর রাত ২টার পরে চলছে নগ্ননিত্য। ফলে এক শ্রেনীর উঠতি বয়সের যুবকরা এই আনন্দ উপভোগ করতে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে প্রতিদিন আসছে এই মেলায়। এতে ধ্বংস হতে বসেছে বর্তমান প্রজন্মের যুব সমাজ। অশ্লীলতা এবং জুয়া অভিযোগে বিগত বছর মেলাটি ভেঙ্গে দেয় প্রশাসন। অপরদিকে মেলাকে ঘিরে গভীর রাত পর্যন্ত সাধারণ মানুষের ছদ্দবেশে চোর-ডাকাতের আনাগোনা বৃদ্ধি প্ওায়ায় প্রায় প্রতিদিন গ্রামাঞ্চল থেকে গরু চুরি সহ ছিচকে চোরের উপদ্রব বৃািদ্ধ পেয়েছ্ েবলে জানান এলাকাবাসী। সুষ্ঠ পরিবেশে মেলা পরিচালনা করতে এই মুহুর্ত্বে নজরদারীতে রাখতে প্রশাসনের উর্দ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষন করেছে এলাকাবাসী।
সরকারের সংষ্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনে জেলা শিল্পকলা একাডেমির তত্ত্বাবধানে তালা উপজেলার তেঁতুলিয়াস্থ কবির জন্ম ভিটায় শততম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে উদযাপিত হচ্ছে এই মেলা। ইতোপূর্বে সকল প্রস্তুতির সম্পন্ন করে গত ১১ মার্চ থেকে ১৫ দিন ব্যাপী মেলা উদ্বোধন করেন।
ইতোমধ্যে আয়োজকরা মেলার বর্ণাঢ্য বাস্তবায়নে কমিটি গঠন থেকে শুরু করে অনুষ্ঠান সূচী, সিদ্ধান্ত, উদ্বোধন, মাঠ ইজারা, অনুমোদিত ইভেন্ট ও ব্যবস্থাপনা সহ নানা সিদ্ধান্ত নিয়ে এগিয়ে চলেছে। পাশাপাশি অশ্লীল নিত্য আর জুয়ার আসর বসানোর অভিপ্রায়ে স্থানীয় প্রশাসন ও সাংবাদিকদের ম্যানেজ করার দায়িত্ব কাঁধে নিয়েছেন কতিপয় নেতা। সরেজমিন তালার তেঁতুলিয়ায় মেলার মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, বেশ কিছু স্টল বসানো হয়েছে মেলার মাঠের মধ্যে, চা-সিগারেট সহ বেশ কিছু প্রসাধনীর ষ্টল বসানো হয়েছে। প্রতিদিন উন্মুক্ত মঞ্চে আলোচনা সভার আয়োজন থাকলেও লোকবলের অভাবে মঞ্চটি অলস পড়ে আছে। কবির নামে একটি লাইব্রেরী ষ্টল বসালেও সেখানে কবির লেখা পর্যাপ্ত বই নেই, সেখানে দর্শনার্থীদের দাড়ানোর মত নুন্যতম জায়গাটিও নেই, নেই কবির লেখা গানের স্বরলিপি, নেই আলোকচিত্র। এমনই অব্যবস্থাপনায় চলছে সিকান্দার মেলা।
জানাযায়, কবি সিকান্দার আবু জাফরের স্মৃতি রক্ষায় প্রতি বছর কবির গ্রামের বাড়ি সাতক্ষীরার তালার তেঁতুলিয়ায় কবির জন্মবাষিকীতে (উৎসব) মেলা চলে আসছে। ঐতিহ্যের সহিত ২০১৭ সাল থেকে সরকারি ভাবে পালনের সিদ্ধান্ত হয় সিকান্দার মেলা। প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ টাকায় মাঠ বিক্রি হলেও কবির স্মৃতি সংরক্ষণ বা মেলায় আগতদের কবি সম্পর্কে ধারণা দিতে কর্তৃপক্ষ কোন ব্যবস্থা নিতে পারেনা। এতে একদিকে যেমন সিকান্দার আবু জাফর সম্পর্কে বর্তমান প্রজন্মের অজানা থেকে যাচ্ছে তেমনি চিত্ত বিনোদনে বাণিজ্যিক প্রসারতায় নানা আয়োজনে মূল লক্ষ থেকে সরে ঐতিহ্য হারাচ্ছে তালাবাসীর প্রাণের মেলা সিকান্দার মেলাটি বাণিজ্যিকি করণের নানা পসরায় চাপা পড়ছে কবির সৃষ্টি। কবির জীবনী ও সাহিত্য সংষ্কৃতি বিষয়ক আলোচনা, পাশাপাশি তাঁর লেখা বই, গান, নাটক ও কবিতা প্রদর্শনের শর্ত থাকলেও এবারো তা করা হচ্ছে না। সব মিলিয়ে মেলার সার্বিক আয়োজনে সুফল না থাকলেও অপসাংস্কৃতি পরিধি বাড়ছে।
নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, উপজেলার সবুজ শিক্ষা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও তেঁতুলিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠ দু’টিকে সামনে রেখে অনুমোদিত মেলায় প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠকে সম্পৃক্ত করলেও বাইরে রাখা হচ্ছে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠটি। আর মেলার মূল আয়োজন থাকছে কবি পরিবারেরই নিজস্ব ফসলি প্রান্তরে। এতে মাঠ ইজারার টাকা প্রাপ্তির বিষয়টি নিয়েও রয়েছে নানা প্রশ্ন।
সূত্র আরো জানায়, এবছর মেলার মূল মাঠ বিক্রি হয়েছে ১ লক্ষ ৫১ হাজার টাকায়। কিন্তু গত বছর (২০১৮ সালে) মেলার মাঠ বিক্রি হয় ৪ লক্ষ ৬০ হাজার টাকায়। অভিযোগ রয়েছে যে, গত বছর ( ২০১৮ সালে) রাজস্ব খাতের প্রাপ্ত সমুদয় টাকায় সংশ্লিষ্ট কয়েক ব্যক্তি ভূয়া বিল- ভাউচারের মাধ্যমে লোপাট করেছে । তবে মেলা কেন্দ্রিক আয়ের এত উৎস্য তৈরী হলেও তা কবির স্মৃতি রক্ষা বা বর্তমান প্রজন্মের কাছে সিকান্দার আবু জাফরকে পৌছে দিতে মূলত কোন প্রভাব ফেলেনি।
এ ব্যাপারে মেলার সদস্য সচিব শেখ মোসফিকুর রহমান মিল্টন বলেন, আমি জেলা থেকে সব দেখা শুনা করে উঠতে পারিনা, স্থানীয় সমন্বয়কারী ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে। এব্যাপারে মেলার মাঠ ইজারাদার আমজাদ হোসেন জানান, এবারের মেলায় প্রায় ৫ লাখ টাকা লগ্নি করেছেন। চরকা- লটারী (জুয়া) চালু না করলে কোন ভাবেই তার লগ্নির টাকা উশুল হবেনা।
এব্যপারে তালা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী রাসেল জানান, মেলায় কোন প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা তিনি বা পুলিশ সমর্থন করেনা। যেভাবে মেলার অনুমোদন হয়েছে,তার বাইরের সকল অবৈধ আয়োজন বন্ধ করা হবে।
তালা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ঘোষ সনৎ কুমার জানান, মেলাটি বানিজ্যিক করনের ফলে এবং পরিবার কেন্দ্রিক কিছু লোকের কারণে সার্বজনিন হচ্ছে না।
সাতক্ষীরা -১ (তালা-কলারোয়া) সংসদ সদস্য এ্যড. মুস্তফা লুৎফুল্লাহ বলেন, মেলার নামে কোন অশ্লীলতা, জুয়া চলতে দেওয়া হবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *