কালীগঞ্জে শ্রী শ্রী গৌরাঙ্গ মহাপ্রভূর শুভ অর্বিভাব তিথি উপলক্ষে সংকীর্তন শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত

মোঃ হাবিব ওসমনি, ঝিনাইদহ) প্রতিনিধিঃ
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে আন্তর্জাতিক কৃষ্ণ ভাবনামৃত সংঘ (ইস্কন) এর আয়োজনে শ্রী শ্রী গৌরাঙ্গ মহাপ্রভূর ৫৩২তম শুভ আবির্ভাব তিথি উপলক্ষে শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২১ মার্চ-১৯) বৃহস্পতিবার সকাল ৯ টার সময় কালীগঞ্জ কলেজপাড়া শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ মন্দির হইতে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে মন্দির প্রাঙ্গনে এসে শেষ হয়। শোভাযাত্রাসহ প্রতিবছরের ন্যায় এবারো উৎসবটি পালন করতে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে কালীগঞ্জের আন্তর্জাতিক কৃষ্ণ ভাবনামৃত সংঘ (ইস্কন)। শোভাযাত্রায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম আনার।
বিশেষ অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কালীগঞ্জে আন্তর্জাতিক কৃষ্ণ ভাবনামৃত সংঘ (ইস্কন) এর সদস্যবৃন্দ ও সর্বস্তরের ভক্তবৃন্দ। শ্রী শ্রী গৌরাঙ্গ মহাপ্রভূর শুভ অর্বিভাব তিথি উপলক্ষে চন্দ্রোদয় পর্যন্ত নির্জলা উপবাস, সকাল ৮ টায় সংকীর্তন সহযোগে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, বিকেল ৪ টায় শ্রী শ্রী চৈতন্য চরিতামৃত পাঠ, সন্ধ্যা ৬টায় শ্রী শ্রী মহাপ্রভূর অভিষেক, ৭ টায় গৌর আরতি ও রাত সাড়ে ৮ টায় অনুকল্প প্রসাদ বিতরণের মধ্য দিয়ে উদযাপন করা হবে শুভ গৌর পূর্ণিমা ২০১৯ইং।
এটা একটি হিন্দু স¤প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব দোল পূর্ণিমা বা হোলি উৎসব। বাংলাদেশে এই উৎসবটি ‘দোলযাত্রা বা দোল পূর্ণিমা’ নামেও পরিচিত।
দোলযাত্রা হিন্দু বৈষ্ণবদের উৎসব। বৈষ্ণব বিশ্বাস অনুযায়ী এ দিন শ্রী কৃষ্ণ বৃন্দাবনে রাধিকা এবং তার সখীদের সঙ্গে আবির খেলেছিলেন। সেই ঘটনা থেকেই দোল খেলার উৎপত্তি। এ কারণে দোলযাত্রার দিন এ মতের বিশ্বাসীরা রাধা-কৃষ্ণের বিগ্রহ আবিরে রাঙিয়ে দোলায় চড়িয়ে নগর কীর্তনে বের হন। এ সময় তারা রং খেলার আনন্দে দিনটি উৎযাপন করেন।
কোনও কোনও স্থানে এ উৎসবকে বসন্ত উৎসব বলা হয়। দ্বাপর যুগ থেকে পুষ্পরেণু ছিটিয়ে রাধা-কৃষ্ণ দোল উৎসব করতেন। সময়ের বিবর্তনে পুষ্পরেণুর জায়গায় এসেছে ‘আবির’।
সারাদেশে সকাল থেকে শুর“ হয়ে বিকাল পর্যন্ত এ উৎসব চলে। হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা পরস্পরকে আবির মাখিয়ে এ উৎসব উদযাপন করবেন।
দোল হিন্দু ধর্মের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎসব। এর মাঝে আলাদা মর্ম ও মাহাত্ম্য যোগ করেছেন বৈষ্ণব অনুসারীরা একে শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভুর শুভ আবির্ভাব তিথি গৌর পূর্ণিমা হিসেবে পালন করে। এই উৎসব পালনের রীতি স্থান ভেদে ভিন্ন হলেও উৎসবের মূল সুরে কোনো ভিন্নতা নেই। গানের কথাতেই যেন দোলযাত্রার মূল সুর ফুটে ওঠে। ভারতে এবং নেপালে এই উৎসবকে ‘হোলি’ বলা হয়। বৈষ্ণব শাস্ত্র চৈতন্য চরিতামৃত পাওয়া যায় পূর্বে বহুকাল পর্যন্ত যা অর্পিত হয়নি এবং উন্নত ও উজ্জ্বল রহস্যময়ী নিজের ভক্তি সম্পদ দান করার জন্য যিনি কর“নাবশত কলিযুগে অবতীর্ণ হয়েছেন। যিনি স্বর্ণ থেকেও সুন্দর দ্যূতিসমূহের দ্বারা সমুদ্ভাসিত, সেই শচীনন্দন শ্রীহরি সর্বদা তোমাদের হৃদয়-কন্দরে স্ফুরিত হোন। আজ থেকে প্রায় ৫০০ বছর আগে পৃথিবীতে ধর্মের চেয়ে অধিক অপধর্ম তথা ছল ধর্মগুলোই যখন মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছিল। সাই, নেড়া, সখীভেকী প্রভৃতি সহজিয়া সম্প্রদায় এর স্বকপোলকল্পিত ধর্ম প্রচারের ফলে যখন প্রকৃত সনাতন ধর্ম বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছিল। তখন ভগবান সদাশিব ও মহাবিষ্ণুর অবতার শ্রীঅদ্বৈত আচার্য ঠাকুরকে পাঠালেন জগতে পুনরায় সনাতন ধর্মের ¯’াপনা করতে। কিš‘ তিনি এসে দেখলেন পৃথিবীর অব¯’া বেগতিক, তাঁর পক্ষে তা শোধরানো অনেকটাই অসম্ভব। তখন তিনি জগতের মানুষের দুর্দশা উপলব্ধি করে গঙ্গাতীরে বসে তুলসীপত্র দিয়ে শালগ্রাম শিলার অর্চনা করতে লাগলেন, আর প্রচন্ড হুংকার করে ভগবান শ্রীকৃষ্ণকে জগতে আসার জন্য আহবান করতে লাগলেন। তাঁর সেই হুংকার এতটাই প্রকট ছিল যে, তা ব্রহ্মান্ডের সপ্ত আবরন ভেদ করে গোলকধামে শ্রীকৃষ্ণের কর্ণকুহরে প্রবেশ করতে লাগল। ভক্তের প্রার্থনা শ্রবন করে ভগবান জগৎ উদ্ধারের নিমিত্তে ১৪০৭ শকাব্দের ফাল্গুনী পূর্ণিমার সন্ধ্যায় এই জগতে আবির্ভূত হলেন। সেই থেকে এই বিশেষ তিথিটি গৌর পূর্ণিমা নামে খ্যাত। ভগবান শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু সারা ভারতে ব্যাপকভাবে হরিনাম প্রচার করে রাধাকৃপা বিতরন করলেন। কিš‘ তবুও সবাইকে উদ্ধার করা সম্ভব হলোনা। সেই কারনে তিনি পরবর্তীতে তাঁর সেনাপতি ভক্ত শ্রীল প্রভূপাদকে পাঠালেন। যিনি শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর শিক্ষার ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ (ইসকন) প্রতিষ্ঠা করে, সারা পৃথিবীজুড়ে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর বানীর সার্থক প্রতিফলন ঘটিয়েছেন। সেই সুবাদে প্রতি বছর আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ (ইসকন) ব্যাপক পরিসরে এই গৌরপূর্ণিমা উৎসবের আয়োজন করে থাকে। প্রতি বছরের ন্যায় এবছরও আগামী শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভুর আবির্ভাব তিথি উপলক্ষে সারাদেশে সকল ইসকন মন্দিরগুলোসহ প্রবর্তক শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ মন্দির কালীগঞ্জে ব্যাপক পরিসরে এই উৎসব পালন করে থাকে ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *