ডুমুরিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের আজীবন দাতা সদস্য নিয়ে মামলা ॥ অন্তরালে নিয়োগ বাণিজ্য উচ্চ আদালত ও শিক্ষাবোর্ডের নির্দেশ অগ্রাহ্য পরিচালনা পর্ষদের

এসকে রায়হান, তালা (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধিঃ সাতক্ষীরা জেলার তালা উপজেলার ডুমুরিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা পরিষদের আজীবন দাতাসদস্য এস এম লিয়াকত হোসেনকে সুকৌশলে বাদ দিয়ে কমিটি গঠন ও পরে তা চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে দায়ের করা রিট পিটিশন মামলায় ১৩৯৮০/২০১৮ আদেশ ও মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড যশোরের আইন উপদেষ্টার মতামতের ভিত্তিতে চলতি বছরের ১৪ ফেব্রুয়ারী পুনরায় তার সদস্যপদ ফিরিয়ে দিলেও এখন পর্যন্ত বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কিংবা সভাপতি তাকে কোন সভায় ডাকেননি। এমনকি সাম্প্রতিক সময়ে বিদ্যাপীঠের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষক নিয়োগের মত গুরত্বপূর্ণ সভায়ও ডাকা হয়নি তাকে। এমন পরিস্থিতিতে বিদ্যালয়টির পরিচালনা পরিষদের প্রধানদের ভূমিকা ও নিয়োগ প্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। জানা গেছে, ১৪ ফেব্রুয়ারী মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড যশোরের সদস্য অন্তর্ভূক্তির চিঠি, যার স্মারক নং- বিঅ-৬/৪৮৮২/৪৮৫০(১-৭) পাওয়ার পরে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে প্রথমে ২৬ ফেব্রুয়ারী দৈনিক মানব জমিন ও পত্রদূত ও ২য় দফায় ২২ মার্চ একই পত্রিকায় পুন:নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিলেও এনিয়ে এসএম লিয়াকত হোসেনকে অবহিত করেননি। ধারণা করা হচ্ছে, বিদ্যালয়েরই দু’শিক্ষককে ঐ পদ সমূহে সম্পৃক্ত করতে নানা অপকৌশলের আশ্রয় নিচ্ছে পরিচালনা পরিষদ। এর আগে সহকারী প্রধান শিক্ষক নিয়োগে দূর্নীতি-অনিয়মের আশ্রয় নিয়ে সিনিয়র শিক্ষকদের বাদ দিয়ে জুনিয়র শিক্ষককে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে শিক্ষক নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্নের অভিযোগ উঠে। ঘটনায় জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা প্রথমত নিয়োগ কার্যক্রম ১৫ দিনের জন্য স্থগিত ও পরে সময় স্বল্পতায় পুরো কার্যক্রম স্থাগিত করেন। এরও আগে সরকারী পরিপত্রকে অমান্য করে উপজেলাকে বাদ দিয়ে (১৪ ফেব্রুয়ারী) নিয়োগ পরীক্ষার ভেন্যু নির্দ্ধারণ করা হয় জেলা সদরের তালতলা আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে। তারও আগে স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নিয়োগে পরীক্ষার আগেই নিয়োগ সম্পন্নসহ নানাবিধ অভিযোগে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ হয়েছিল। অভিযোগে আরো বলা হয়, তালা উপজেলার ডুমুরিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘ দিন যাবৎ সহকারী প্রধান শিক্ষক পদটি শূণ্য থাকায় পরিচালনা পরিষদের সিদ্ধান্ত মোতাবেক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেয়। প্রথম থেকেই ঐ নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে নানাবিধ অভিযোগ ওঠে। তবে সর্বশেষ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় বেপরোয়া হয়ে উঠেছে কর্তৃপক্ষ। এদিকে চলতি বছরের ২৮ জানুয়ারী আব্দুল হামিদ অবসরে গেলে ৫ ফেব্রুয়ারীর সভায় তার স্বাক্ষর সংগ্রহ করায় ধারণা করা হচ্ছে, কতৃপক্ষ ঐ সভার তার মেয়াদের একটি তারিখ দেখিযেছেন। যা নিয়োগের স্বার্থে তারা গোপন রেখেছেন। সূত্র জানায়, সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ পরীক্ষার আগেই একই বিদ্যালয়ের জনৈক শিক্ষকদের নিয়োগের বিষয়টি চাউর হওয়ায় এলাকাময় নানা বিষয় প্রচার রয়েছে। সর্বশেষ উচ্চাদালত ও শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশনা অমান্য করে লিয়াকত হোসেনকে সদস্য পদ ফিরিয়ে না দিয়ে এমনকি তাকে কোন সভায় অবগত না করিয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান ও সহকারী প্রধান শিক্ষক নিয়োগের মত গুরুত্বপূর্ণ সভায়ও তাকে অবগত না করানোয় পুরনো অভিযোগই ফের সামনে উঠে এসেছে। এ ব্যাপারে ভূক্তভোগী লিয়াকতসহ সচেতন অভিভাবক ও এলাকাবাসী তদন্তপূর্বক জরুরী ভিত্তিতে পদক্ষেপ গ্রহনের জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *