এফবিআই’র তদন্তের মুখে কাভানা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সুপ্রিমকোর্টের জন্য তার মনোনীত বিচারপতি ব্রেট কাভানার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ এফবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। শুক্রবার সিনেট কমিটি কাভানার মনোনয়নের পক্ষে ভোট দিয়েছে।

তবে একজন রিপাবলিকান সিনেটর অভিযোগটির ব্যাপারে আরও তদন্তের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। এর জের ধরেই তার বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ দেন ট্রাম্প। ফলে কাভানার নিয়োগ নিশ্চিত করার জন্য সিনেটের পূর্ণ ভোট আরও এক সপ্তাহের জন্য পিছিয়ে দেয়ার নির্দেশও দিয়েছেন তিনি। শনিবার বিবিসি এ খবর দিয়েছে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে কংগ্রেসের বাইরে ও ভেতরে অনেক চাপ থাকায় সিনেটের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে কাভানার ব্যাপারে আরও তদন্তের জন্য এফবিআইকে নির্দেশ দিয়েছি। তবে এ তদন্ত এক সপ্তাহের কম সময়ের মধ্যে শেষ হতে হবে।’

শুক্রবার রাতে কাভানার প্রতি জোরালো সমর্থন ব্যক্ত করে তিনি টুইটারে এক বার্তায় বলেন, এফবিআইয়ের সদস্য বিচারক ব্রেট কাভানার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ শুক্রবার রাতেই নতুন করে তদন্ত শুরু করা হয়েছে। তিনি কয়েকদিনের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিমকোর্টের প্রকৃতপক্ষে একজন মহৎ বিচারপতি হিসেবে স্বীকৃতি পাবেন।

জানা গেছে, কাভানার বিরুদ্ধে ক্রিস্টিনা ব্লেসি ফোর্ডের যৌন হয়রানির অভিযোগ নিয়ে ইতিমধ্যে শেষ হওয়া তদন্ত আবারও নতুন করে শুরু করবে এফবিআই। পুরনো প্রত্যক্ষদর্শী বা নতুন কারও সঙ্গে এফবিআই কথা বলবে। আপিল কোর্টের বিচারপতি কাভানা তার বিরুদ্ধে আনা ক্রিস্টিনাসহ কমপক্ষে তিনজন নারীর অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

বৃহস্পতিবার সিনেটের বিচারবিষয়ক কমিটিতে কাভানা ও ক্রিস্টিনা দুজনই সাক্ষ্য দিয়েছেন। কমিটির ২১ জন রিপাবলিকান ও ডেমোক্রেট তাদের প্রশ্ন করেন। সাক্ষ্য দিতে গিয়ে কাভানা ও ক্রিস্টিনা দুজনই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। অভিযোগকারী ক্রিস্টিনা সাক্ষ্য দিতে গিয়ে বলেন, কাভানার যৌন হয়রানির ঘটনা তার জীবনের সবকিছু আকস্মিকভাবে পাল্টে দিয়েছিল। তিনি ভীত ও লজ্জিত থাকতেন। প্রয়োজনে তার করা অভিযোগ এফবিআইকে দিয়ে তদন্ত করানোর অনুরোধ জানান তিনি।

এফবিআইকে ঘটনাটি তদন্তে ট্রাম্পের নির্দেশ প্রসঙ্গে কাভানা বলেন, ‘তারা যা করার জন্য অনুরোধ করবেন, আমি তা-ই করব। আমার সহায়তা অব্যাহত থাকবে।’

এফবিআই তদন্তের ব্যাপারে কাভানার আইনজীবী বারবারা ভ্যান গেল্ডার বলেন, এফবিআই বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যেকোনো সংস্থা কাভানার সহযোগিতা পাবে। তাকে (কাভানা) করা সব প্রশ্নের জবাব তিনি দেবেন। এদিকে ক্রিস্টিনার আইনজীবী ডেবরা কাটজ জানান, ক্রিস্টিনা এ পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন। তবে এক সপ্তাহের সময় বেঁধে দেয়ার ব্যাপারে তাদের প্রশ্ন রয়েছে।

বিষয়টি জটিল হওয়ায় তদন্তের জন্য এত কম সময় দেয়া ঠিক হয়নি বলে মনে করেন তারা। নয় সদস্যের সুপ্রিমকোর্টের যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে প্রভাব অপরিসীম। মার্কিন আইনের ব্যাপারে তাদের মতামতই চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হয়। গর্ভপাতের মতো বিতর্কিত সামাজিক ইস্যু ও সরকারের নীতির চ্যালেঞ্জের ব্যাপারেও সুপ্রিমকোর্ট সম্পৃক্ত হন। সুপ্রিমকোর্টে কাভানা নিয়োগ পেলে আগামী দিনগুলোয় রক্ষণশীলদের পক্ষে ভারসাম্য বজায় থাকবে।