রাস্তা অবরোধ করে সভা-সমাবেশ করতে দেয়া হবে না: ওবায়দুল কাদের

রাস্তা অবরোধ করে কোনো সভা-সমাবেশ করতে দেয়া হবে না বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেছেন, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান সবার জন্য উন্মুক্ত। সেখানে প্রয়োজনে মুক্তমঞ্চ করে দেয়ার কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। যার যা খুশি বলতে পারবেন। দরকার হলে আমরা মাইকও সেট করে দেব। কিন্তু রাস্তায় চেঁচামেচি করতে দেব না। আমরাও করব না, আপনাদেরও (বিএনপি) করতে দেব না।

রাজধানীর জাতীয় জাদুঘরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে শনিবার সকালে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে শেখ রাসেল শিশু-কিশোর পরিষদ।

সমাবেশ করতে পুলিশের অনুমতির বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, টকশোর বিষয় হল ‘সভা-সমাবেশের অনুমতি লাগবে কেন।’ উপস্থাপকও বলছেন অনুমতির কথা। কিন্তু এ সাবজেক্টটাই বা কেন? পুলিশের অনুমতি শুধু বিরোধী দল নয়, সরকারি দলকেও নিতে হয়। আমরা ক্ষমতাসীন দলও অনুমতি নেই। এটাই নিয়ম।

বিএনপির আজকের (রোববার) সমাবেশের বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি যে সমাবেশ করতে চাইছে, সে ব্যাপারে পুলিশ মহাপরিদর্শকের সঙ্গে কথা হয়েছে। বিএনপি সমাবেশের অনুমতি পাবে। তিনি বলেন, ১০ বছরে ১০ মিনিটও রাস্তায় দাঁড়াতে পারেনি, তারপরও সমাবেশের অনুমতি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বলবে, ‘সরকার বাধ্য হয়ে অনুমতি দিয়েছে।’ অনুমতি পেয়ে যাবেন, তবে এ নিয়ে যেন কোনো নাটক না হয়।

বিএনপির এক নেতার নাম উল্লেখ না করে সেতুমন্ত্রী বলেন, আমি বলেছি, দেশে অশুভ শক্তির তৎপরতা চলছে। তিনি (বিএনপি নেতা) কেন অর্ধসত্য বলে অশুভ শক্তির জায়গায় অশনি সংকেত ব্যবহার করে আমার সম্পর্কে বিভ্রান্ত করেছেন? এটাই যদি বিএনপির রাজনীতি হয়, আমার কিছু বলার নেই। এটা মিথ্যাচার। আমি চ্যালেঞ্জ করছি, আমার কথার ভিডিও আছে। আমি খুব কষ্ট পেয়েছি।

পত্রিকার মালিক ও সম্পাদকদের উদ্দেশে ওবায়দুল কাদের বলেন, আমার অনুরোধ, যা দেখবেন-শুনবেন তাই লিখবেন। শুক্রবার ১৪ দলের সমন্বয়ক আমাকে বলেছেন, তারা কর্মী সমাবেশ করছেন। কিন্তু আপনারা একে সমাবেশ বলছেন কেন? সমাবেশ বানিয়ে বিএনপির সঙ্গে পাল্টাপাল্টি তো আমরা করব না। পাল্টাপাল্টি করলে কি আমরা নাট্যমঞ্চে করব? এটা সমাবেশ নয়, এটা হচ্ছে কর্মী সমাবেশ। এসব বিষয় বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে দলটির প্রতিনিধিরা জাতিসংঘের নিচের সারির কর্মকর্তার সঙ্গে দেখা করেছিলেন। দেশে এসে বলেন, জাতিসংঘ নাকি তাদের পক্ষে দাঁড়াবে। গতকাল (শুক্রবার) শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠকে জাতিসংঘের মহাসচিব বলেছেন, বাংলাদেশে আজ যে পরিস্থিতি বিরাজ করছে, এজন্য শেখ হাসিনার সরকার ও জনগণের প্রতি পূর্ণ আস্থা আছে এবং তিনি সহযোগিতা করবেন। এটা আমরা বিএনপির মতো বানিয়ে বলছি না, দেশ ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে সংবাদ আছে।

এশিয়া কাপের ফাইনালে বাংলাদেশের পরাজয়ের বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আজ সবার মন খারাপ। কারণ, বিতর্কিত সিদ্ধান্তে আমরা ক্রিকেটে হেরে গেলাম। কিন্তু আমরা হারিনি, আমরা হারব না। তিনি বলেন, বাংলাদেশের টাইগাররা চোট খেয়েছে। কিন্তু এশিয়া কাপের ফাইনালে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত কয়েকবারের চ্যাম্পিয়ন ভারতের সঙ্গে লড়াই করেছে। শেষ বল পর্যন্ত ঘাম ঝরিয়ে ভারতকে বিজয় দেখতে হয়েছে।