মাদ্রাসা বোর্ডের চেয়ারম্যানের কাছে ব্যাখ্যা তলব

মন্ত্রণালয়ের ক্ষমতা প্রয়োগ করায় মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানের কাছে ব্যাখ্যা তলব করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগ।

চেয়ারম্যান ১২ মাদ্রাসার একাডেমিক স্বীকৃতি বাতিল করেছিলেন; যা তার এখতিয়ারবহির্ভূত। এখন সেই বাতিল আদেশ প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছে।

কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের একাডেমিক স্বীকৃতি বাতিলের অর্থ হচ্ছে সেই প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়া। ওইসব প্রতিষ্ঠানে সরকার এমপিও হিসেবে যে অর্থ দেয়, তাও স্থগিত হয়ে যায়। সাধারণত কাক্সিক্ষত সংখ্যক শিক্ষার্থী না থাকা, শিক্ষার্থীদের ফলাফল কাক্সিক্ষত হারে না থাকাসহ বিভিন্ন কারণে স্বীকৃতি বাতিল করা হয়ে থাকে। মাদ্রাসা বোর্ডের উল্লিখিত সিদ্ধান্তের ফলে প্রতিষ্ঠানগুলো চালুর পাশাপাশি বেতন চালু হয়ে যাবে।

কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, সর্বশেষ নিয়ম অনুযায়ী কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের একাডেমিক স্বীকৃতি প্রদান ও বাতিলের সিদ্ধান্ত শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি কমিটি গ্রহণ করে থাকে। ওই সিদ্ধান্ত অনুমোদন দেন শিক্ষামন্ত্রী। সেই হিসেবে মাদ্রাসা বোর্ডের চেয়ারম্যান ১২টি প্রতিষ্ঠানের একাডেমিক স্বীকৃতি বাতিলের আদেশ দেয়ার বিষয়টি এখতিয়ারবহির্ভূত।

কয়েক দিন আগে বোর্ড চেয়ারম্যান অধ্যাপক একেএম ছায়েফউল্যাকে ব্যাখ্যা দিতে চিঠি দেয় কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগ। ওই চিঠি অনুযায়ী ২০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ব্যাখ্যা দাখিল করার কথা। তবে রোববার পর্যন্ত তা দেয়া হয়নি।

জানতে চাইলে মাদ্রাসা বোর্ডের চেয়ারম্যান যুগান্তরকে বলেন, শিক্ষা বোর্ডের অর্ডিন্যান্স অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন, স্বীকৃতি, বাতিলের ক্ষমতা আছে শুধু বোর্ডের। সম্প্রতি মন্ত্রণালয়ও দিয়ে থাকে। উল্লিখিত ১২ মাদ্রাসার ক্ষেত্রে স্বীকৃতি বাতিল করা হয়েছিল। কিন্তু যেসব কারণে আদেশ প্রত্যাহার করা যায়, সেগুলো পূরণ করায় বোর্ডেরই দেয়া আগের আদেশ বাতিল করা হয়েছে। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, কেন স্বীকৃতির আদেশ বাতিল করা হয়েছিল তা মনে নেই। মন্ত্রণালয় কোনো শোকজ করেনি। এ বিষয়ে শুধু জানতে চেয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ২০১৬ সালের অফিস আদেশ অনুযায়ী বেসরকারি মাদ্রাসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রাথমিক পাঠদান অনুমতি, একাডেমিক স্বীকৃতি এবং অতিরিক্ত শ্রেণী, শাখা, বিষয় ও বিভাগ খোলার বিষয় মূল্যায়নের জন্য অতিরিক্ত সচিবকে (মাদ্রাসা) আহ্বায়ক করে গঠিত সাত সদস্যবিশিষ্ট কমিটি অনুমোদন দেবে। ২০১৭ সালের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ সৃষ্টির পর একই ভাবে আট সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়। মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ওই কমিটির একজন সদস্য। কমিটির কার্যপরিধি অনুযায়ী একাডেমিক স্বীকৃতি বাতিলের আদেশ প্রত্যাহারের জন্য মন্ত্রী বা সচিব বরাবর কমিটি সুপারিশ করবে। এ ক্ষেত্রে মন্ত্রী চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেন। কমিটি গঠনের পর থেকে এ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

একাডেমিক স্বীকৃতি বাতিল বা বাতিলাদেশ প্রত্যাহার করা মাদ্রাসাগুলো হচ্ছে- গোপালগঞ্জ সদরের করপাড়া ইউনিয়ন আলিম মাদ্রাসা, টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার কুড়িআটা দাখিল মাদ্রাসা, একই উপজেলার ডুবাইল ইমামবাড়ি দাখিল মাদ্রাসা, জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার কাটাহার রউফিয়া দাখিল মাদ্রাসা, কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার কর্পুরা কারিমিয়া বালিকা দাখিল মাদ্রাসা, ঝালকাঠি সদর উপজেলার মোকাররমপুর দরবার শরীফ দাখিল মাদ্রাসা, একই জেলার নলছিটি উপজেলার দক্ষিণ আওক্ষির মেহেদিয়া দাখিল মাদ্রাসা, পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার লেমুয়া চন্দ্রকান্দা আলিম মাদ্রাসা, কুমিল্লা সদর উপজেলার শাহে মদিনা হরমুজের নেছা আমড়াতলী দাখিল মাদ্রাসা, ওই জেলার বরুয়া উপজেলার আগানগর ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা এবং ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার দক্ষিণ ওসমানগঞ্জ মোজাফফরিয়া দাখিল মাদ্রাসা।