ইয়েমেনের পথে পথে স্থলমাইন

শহর থেকে প্রত্যন্ত গ্রাম, সরু রাস্তা থেকে শহরের প্রধান রাস্তা- সর্বত্রই মাইন পোঁতা। ঘর থেকে পথে নামাই দায়। পুঁতে রাখা মাইনের ওপর পা পড়লেই শেষ। বিস্ফোরণে উড়ে যাচ্ছে হাত-পা-শরীর। যুদ্ধবিধ্বস্ত ইয়েমেনের নতুন আরেক অভিশাপ হয়ে হাজির হয়েছে স্থলমাইন।

সৌদি জোটের বিমান হামলার বিপক্ষে বন্দুকযুদ্ধের পাশাপাশি পথে পথে স্থলমাইন বিছিয়ে রেখেছে হুথি বিদ্রোহীরা। গত তিন বছরের যুদ্ধে প্রায় ১৪ হাজার বেসামরিক নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে অনেকেই নিহত হয়েছেন মাইন বিস্ফোরণে।

যুদ্ধের কারণে দেশটির দুই কোটি মানুষ দুর্ভিক্ষের কবলে পড়েছে। কিন্তু মাইনের কারণে সব এলাকায় ত্রাণ পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছে ত্রাণ সংস্থাগুলো।

ছোট দুই শিশু ইমাদ ও আলিয়া। তাদের শৈশব এখন আর আনন্দের নেই। স্থলমাইন বিস্ফোরণে মারা গেছে তাদের বাবা। পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ হুদেইদায় তাদের বাড়ি। বাড়ির আনাচে-কানাচে সর্বত্রই মাইন পোঁতা হয়েছে।

বাধ্য হয়ে আল দুনাইন গ্রামের বাড়ি ফেলে তাদেরকে নিয়ে খোখা জেলার এক শরণার্থীশিবিরে আশ্রয় নিয়েছে তাদের মা ফাতিহা ফারতুত। মঙ্গলবার এএফপিকে এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, সব জায়গায় মাইন পুঁতেছে হুথি বিদ্রোহীরা।

একদিন বাজারে যাওয়ার সময় পথে মাইন বিস্ফোরণে নিহত হন তার স্বামী। তিনি বলেন, হুথিরা তখন আমাদেরকে বলল, হয় বাড়ি ছেড়ে চলে যাও নতুবা মাইন বিস্ফোরণে মরো।

সম্প্রতি ইয়েমেনে উভয়পক্ষই সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধ করেছে বলে অভিযোগ করেছে জাতিসংঘসহ মানবাধিকার সংস্থাগুলো। অপরাধ তদন্তে সেখানে একটি তদন্ত দলও পাঠিয়েছে জাতিসংঘ। বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত এলাকায় নির্বিচারে বিমান হামলা চালাচ্ছে সৌদি জোট। এতে নারী ও শিশুসহ নিহত হচ্ছে হাজার হাজার বেসামরিক নাগরিক। অন্যদিকে স্থলমাইনের যথেচ্ছা ব্যবহার করছে হুথি বিদ্রোহীরা।

স্থলমাইনের ব্যবহার প্রতিরোধে আন্তর্জাতিক একটি চুক্তি রয়েছে। ১৯৯৯ সালে স্বাক্ষরিত চুক্তিটির অন্যতম স্বাক্ষরকারী দেশ ইয়েমেন। হুথির এই অবাধ মাইন ব্যবহার যুদ্ধাপরাধের হিসেবে মানবাধিকার সংস্থাগুলো। তবে স্থলমাইন পোঁতার অভিযোগ অস্বীকার করেছে হুথিরা।

২০১৭ সালে হিউম্যান রাইটস ওয়াচকে (এইচআরডব্লিউ) লেখা এক চিঠিতে তারা বলেছে, তাদের কাছে স্থলমাইনের কোনো মজুদ নেই এবং যুদ্ধের ক্ষেত্রে তারা আন্তর্জাতিক আইন মেনেই যুদ্ধ করছে।

হুথিদের স্থলমাইন আর সৌদি জোটের বিমান হামলার মধ্যে পড়ে দিশেহারা সাধারণ ইয়েমেনিরা। মাইনের কারণে ভয়ে বাড়ি ছেড়েছেন বহু মানুষ। ঘরবাড়ি থাকতেও বাধ্য হয়ে থাকতে হচ্ছে শরণার্থীশিবিরে।

ফাতিহা ফারতুতের বাবা জামার ফারতুত বলেন, হুথিরা সর্বত্রই স্থলমাইন পুঁতেছে। আমাদের বাড়ির রাস্তাতেও মাইন পোঁতা হয়েছে। এইচআরডব্লিউ জুনে এক বিবৃতিতে জানায়, দেশটিতে মাইনে ফাঁদে পড়েছে সাধারণ মানুষ। তাদের কাছে এখন ত্রাণ পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না।